আজ ২৭ রমজান। অশেষ পুণ্যের আধার মহিমান্বিত মাহে রমজানের নাজাতের দশকও চলে যাচ্ছে। এখন আমাদের হিসাব মিলানো দরকার এবং অতীত গুনাহের জন্য মাফ চাওয়া উচিত। মহিমান্বিত এই মাস যে বার্তা আমাদের কাছে পেশ করেছিল তার কতটুকু আমাদের জিন্দিগিতে প্রতিফলিত হলো? রোজার সমস্ত আহকাম কি আমরা ঠিকমতো আদায় করতে পেরেছি?
সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর দেরি না করে এখনই আমাদের ভুল-ত্রুটির জন্য মহান আল্লাহর কাছে চোখের পানি ফেলে মাফ চাওয়া উচিত। তাই আসুন, আমরা নিজ পাপের জন্য অনুশোচনা করি এবং ভবিষ্যতে পাপ না করার ওয়াদা করি। কারণ আল্লাহ তায়ালা তো গফুরুর রহীম, তিনি সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন।
মহান আল্লাহ পাক নিজেই পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন, আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন (সুরা যুমার : আয়াত ৫৩)। তা ছাড়া হাদিসে এসেছে, রমজানের শেষ দশকে জাহান্নাম থেকে বিপুল সংখ্যক কয়েদিকে নাজাত দেওয়া হয়।
এক হাদিসে হুজুর (সাঃ) বলেন, রমজানের প্রতি দিবা রাতে জাহান্নামের কয়েদিদেরকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং প্রতি দিবা রাতে মুসলমানের একটি দোয়া অবশ্যই কবুল করা হয় (তারগিব)।
আর এক হাদিসের অংশ বিশেষে প্রিয় নবী কারিম (সাঃ) এরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসে ইফতারের সময় এমন দশ লাখ লোককে জাহান্নাম হতে মুক্তি দান করেন যাদের ওপর জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গিয়েছিল। এরপর যখন রমজানের দশ দিন আসে, তখন পহেলা রমজান থেকে শেষ পর্যন্ত যত লোককে জাহান্নাম হতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তার সমসংখ্যক লোককে একদিনে জাহান্নাম হতে মুক্তি দেওয়া হয় (তারগিব : বায়হাকি)।
এ কারণে আমাদেরও বেশী বেশী আল্লাহর কাছে নাজাতের জন্য দোয়া করা উচিত। কারণ জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া ও জান্নাত হাসিল করাই মানুষের আসল উদ্দেশ্য ও কামিয়াবি। আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন : যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেল ও জান্নাতে প্রবেশ করলো, সেই প্রকৃত সফলতা লাভ করলো (আল কুরআন)।
খুলনা গেজেট/এনএম

